Mental Health of an ongoing school child_Vol_3

কোভিদ-19 অতিমারীর সঙ্গে লক-ডাউনের পরিস্থিতিতে ভয় আর উদ্বেগ বহন করতে হচ্ছে সমগ্র বিশ্বকে।শারীরিক-মানসিক-সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি আবেগ, অনুভূতির সঙ্গেও কোথাও আপস করতে হচ্ছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে সাইকোলজিক্যাল সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের অপ্রস্তুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ায় মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। এই কোভিদ-19 ভাইরাসের বিস্তার শিশুদের জীবনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে, শিশুসহ জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর তার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি দেখা যাচ্ছে ।



একটি শিশুর ভালো থাকা নির্ভর করে কয়েকটি উপাদানের ওপর যেমন বেশকিছু প্রাথমিক চাহিদা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, আদানপ্রদান, স্নেহ এছাড়াও শিশুর বেড়ে ওঠা এবং ডেভেলপমেন্টের জন্য ভীষণভাবে জরুরি শিশুর আবগের সংযোগ, স্থায়ী সম্পর্ক আর নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। 


এই অতিমারী পরিস্থিতিতে চারটে ফ্যাক্টর শিশুদের ভালো থাকাতে  বিঘ্ন ঘটাচ্ছে -


সাধারণভাবে সমাজে পরিকাঠামোগত একটা বড়ো পরিবর্তন এসেছে, খেলাধুলা করার সুযোগ নেই, ভবিষ্যৎ কি হবে সেটা নিয়ে বড় প্রশ্নের জায়গা তৈরি হয়েছে, শিক্ষাগত কাঠামোর পরিবর্তন, সবকিছু থেকে নিজেকে আড়াল বা বিরত রাখা, দরিদ্রতা, সামাজিক ভাবে এবং শারীরিক ভাবে একাকীত্ব বোধ যেটা সাইকোলজিক্যাল সমস্যার সম্মুখীন করে-তুলছে; জীবন-চর্যার বদলে যাওয়া, প্রিয়জন হারানো, মৃত্যুর ভয় মনের ভেতর বাসা করেছে।


পরিবারের নানাসমস্যাও শিশুটির মনোজগতে প্রভাব তৈরি করে। অনেক শিশুর কাছে পরিবারের অসুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার কোনো চিত্র থাকে না, বড়োরা অনেকসময়ই ছোটোদের সমস্যা থেকে আড়ালে রাখতে চান।সেইকারণে বড়দের সমস্যা নিয়ে আলোচনা শুনে শিশুটির মনের ভেতর অকারণ ভয়ের জন্ম হয়। শিশুর চাহিদা মেটাতে গিয়ে কোথাও পরিবারের বড়োদের একটা ক্রাইসিসে পড়তে হয়।পরিবারের কোনও সদস্যের কোভিদ পজিটিভ, কেউ কেউ হসপিটাল যাচ্ছে আবার হয়তো তাদের মধ্যে কেউ ফিরে আসছে না হঠাৎ করে এক বা একাধিক জনের মৃত্যু একটি শিশুর মনের ভেতর নানা রকম প্রশ্ন আশঙ্কা উদ্বেগের সঞ্চার করে। এছাড়া নানা রকম ABUSE-এর ঘটনা পারিবারিক পরিবেশের মধ্যে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স শিশুদের মনে আতঙ্কের বোধ জাগায় ।


স্কুল এমন একটা ডেভেলপমেন্টের জায়গা শিশুরা যার অংশ হয়ে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ভালো থাকে, হঠাৎ সেখানেও চূড়ান্ত পরিবর্তন ; সবকিছুর সাথে ইমোশনের লড়াই নতুন পদ্ধতিতে না-পেরে ওঠা শিশুটির মধ্যে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে, আবার এমনও হচ্ছে অনলাইন পদ্ধতি তাদের কাছে সহজে  উপলব্ধ থাকায় এন্টারটেইনমেন্টের জন্য এমন কিছু করে বসছে যেটায় জীবনে ঝুঁকি হয়ে যাচ্ছে ।


সামাজিকভাবে মেলামেশা করতো ছোটোরা, তাদের নিজস্ব পরিসর ছিল। এখন সে সুযোগ না থাকায়, সামাজিকীকরণের জন্য  বিভিন্ন অনলাইন গেম অনলাইন কিছু অ্যাক্টিভিটি মাধ্যমে এমন কিছু পথ বেছে নিচ্ছে তাতে বুলিং, সাইবার ক্রাইম, ট্রলিং মাত্রা বৃদ্ধির হার অপরিসীম। শিশুদের জীবনে বন্ধুদের ভূমিকা অপরিসীম না-বলতে পারা বহু কিছু নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে ; এই অভাব ভীষণভাবে মনকে কষ্ট দিচ্ছে।


একজন শিশু অন্য  একজনের থেকে ভিন্ন, তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বেড়ে ওঠা ধরন ভিন্ন, তাই একটা বিষয় যে একভাবে সব শিশুর ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে সেটা নাও হতে পারে। কেউ হয়তো মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছে, কেউ পারিবারিক অশান্তি। বড়রা যেভাবে বলতে পারবে একটি শিশু তার অস্বস্তি, ভালো না লাগা এগুলো গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারে না, পারলে সেটা কতটা বৈধ সেটাও প্রশ্ন বেশ কিছু অভ্যন্তরীন সমস্য যা ভাবনা চিন্তার সাথে জড়িত যেটা হয়তো সহজে অন্যদের চোখে পড়ছে না যার বহিঃপ্রকাশ বাহ্যিক কিছু  আচরণ নজরে পড়ছে।

 


এছাড়া তাদের দক্ষতাতে  কোথাও ঘাটতি দেখা দিচ্ছে মতবিরোধ,  ঘুমের সমস্যা, ছোট ছোট বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করা, হতাশা, প্রতিদিনের কাজ বা ভাবনা চিন্তায় অনীহা, অসহায়তা বোধ । বিভিন্ন ধরনের যে বিষয়ে কিভাবে অংশগ্রহণ করছে বা ছোট শিশু যদি হয় সে কি ধরনের খেলাধুলা করছে বা সক্রিয়তা লক্ষ করলে তাদের মনে কি চলছে বোঝা যায়। অনেক সময় কোনও কিছু করার আগে প্রাথমিক আবেগ বা ইমোশনগুলোকে অ্যাড্রেস করা বা বুঝতে পারা ভীষণ জরুরী। বিভিন্ন ধরনের আচরণ বদলে যাবার ধরন (PATTERN) চেনা বা সেগুলো কোনরকম ডিজঅর্ডার হিসাবের না ধরে নিয়ে তার অনুষঙ্গ(CONTEXT) বোঝা। কেন হচ্ছে? কোথায় হচ্ছে? কখন করছে ? এই ধরনের  বিষয়ে লক্ষ রাখা।


23 views0 comments

Recent Posts

See All