Mental Health of an ongoing school child_Vol_1

শিশুমন সৃষ্টিশীলতার আঁতুরঘর”----, এই কথা আমরা সকলেই জানি; যেকারণে একটি শিশুর সর্বতোভাবে এক স্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুক্ত ভাবে বেড়ে ওঠা একান্ত প্রয়োজনীয় I একমাত্র মুক্ত পরিবেশেই একটি শিশুর সঠিক চারিত্রিক ও মানসিক বিকাশ সম্ভব I একটি শিশুর এই বিকাশের ক্ষেত্রে তার বাড়ির পরিবেশের সাথে বিদ্যালয়ের পরিবেশও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ; কারণ একটি শিশু তার দিনের অধিকাংশ সময় কাটায় বিদ্যালয়ের পরিবেশেই I বর্তমানের এই অতিযান্ত্রিক ও অদ্ভুত রকমের অতিবৈজ্ঞানিক সময়ে, যখন আমরা সকলেই ব্যস্ত কোনো এক কাল্পনিক তৃপ্তির স্বাদ গ্রহণ করতে, যখন আমরা সকলেই মগ্ন এই জীবনের ঘোড়দৌড়ে; তখন কতটা স্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনো শিশু পাচ্ছে, তা যথেষ্ট তর্কসাপেক্ষ I মুক্ত পরিবেশতো দূর, স্বাধীনভাবে তার মন ও মননের বিকাশ-ই বা আমার হতে দিচ্ছি কোথায়! প্রতিনিয়ত আমাদের চাহিদার বোঝা পূরণ করতে আমরা আজ অবতীর্ণ হয়েছি সার্কাস-এর রিংমাস্টার-এর ভূমিকায় I যার মলস্বরূপ অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই শিশুটির মানসিক ও চারিত্রিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ভয়ঙ্কর ভাবে, প্রাত্যহিক পড়াশুনার বিষয়গুলি তার কাছে হয়ে উঠছে ভয় বা রাগের বা বিরক্তির কারণ; যার ফলস্বরূপ শিক্ষা হয়ে উঠছে অন্তঃসারশূন্য I এই অন্তঃসারশূন্য শিক্ষা তাকে কিছু কাগজের যোগ্যতা এনে দিলেও, দেয়নি শিক্ষার প্রকৃত স্বাদ, যার ফলস্বরূপ তার অবস্থা হয়ে উঠছে অনেকটা 'বিদ্যেবোঝাই বাবুমশাই'-এর মতো Iএকাধারে যান্ত্রিকতা তথা চাহিদার বোঝা, যে বোঝা বহন করার জন্য প্রত্যেক শিশুর ঘাড় ধরে তাদের নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে বর্তমানা সময়ের জান্তব অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতায়; যে প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের সুচিন্তিত অতিবৈজ্ঞানিক পাঠক্রম এক অনস্বীকার্য ভূমিকা গ্রহণ করে I এই দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে তো শিশুদের শৈশবের এক্কেবারে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়! তাতে অবশ্য আমাদের খুব একটা কিছু আসে যায়না, তাইতো আস্তে আস্তে শিশুদের সৃষ্টিশীলতা আজ পাঠক্রম আর মুঠোফোনে বন্দি I

এবারে আসা যাক পরিবেশের কথায়, যে পরিবেশের ব্যাপারে শুরুতেই বলা হয়েছে I কোনো বীজের থেকে সম্পূর্ণ একটি গাছ, বা সেই গাছটির উৎপাদনশীলতার জন্য যেমন তার পরিবেশের মাটি, জলবায়ু ইত্যাদি প্রয়োজনীয়; তেমনি একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য তার বাড়ির পরিবেশ, অভিভাবকদের পারস্পরিক ব্যবহার তথা তাদের আদর্শ ও নীতিবোধ, নিয়ম-শৃঙ্খলা, তাদের সৃষ্টিশীলতা ইত্যাদির অপরিসীম গুরুত্ব আছে I সুতরাং, কোনো শিশুর সামনে বয়ঃজেষ্ঠদের আচার-আচরণ সেই শিশুর মনে গভীর দাগ কাটে, এই বিষয়ে একইভাবে আমরা আজ-ও সম্পূর্ণভাবে উদাসীন I

সুতরাং, একটি শিশুর তথা তার উৎপাদনশীলতা এবং সৃষ্টিশীলতার সম্পূর্ণ বিকাশের জন্য উপরোক্ত বিষয়গুলির গুরুত্ব অপরিসীম I এক কাল্পনিক সাফল্যের পেছনে ধাওয়া করে একটি শিশুর শৈশবকে চাহিদার আগুনে আহুতি দেওয়ার পরিবর্তে, তার মধ্যে থাকা গুণাবলীর যত্ন নেওয়া আবশ্যক, যা এই গতানুগতিকতার বাইরে বেরিয়ে তার নিজস্ব পরিচয় তৈরী করতে সাহায্য করবে এবং যা এক সুস্থ ভবিষ্যতের প্রথম সোপান হয়ে থাকবে I